মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ জুলাই ২০১৫

আরচ্যারী

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই উপমহাদেশের কমবেশী প্রতিটি মানুষ তীর ধনুকের সাথে পরিচিত। বাঙ্গালী তার স্মৃতির দূয়ার খুলেই দেখতে পায় তীর ধনুকের ছবি। আর সেই স্মৃতিময় তীর ধনুকই আজকের আরচ্যারী। আদিম যুগে মানুষ বাচার লড়াইয়ে তীর ধনুকের ব্যবহার শুরু করে। তার পর ক্ষমতার লড়াইয়ে এর ব্যবহার হতে থাকে।  প্রায় সকল ধর্মেই তীর ধনুকের ব্যবহার রয়েছে।

 

ক্রীড়ামোদি এই বাংলাদেশে অনেক খেলাই রয়েছে। তার মধ্যে আবার কিছু খেলা রয়েছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। আমাদের খুজতে হবে কোন খেলায়  আর্ন্তজাতিক সফলতা অর্জন সম্ভব। আরচ্যারী  মনস্তাত্বিক খেলা। আর আমাদের পরিবেশে এই খেলার সম্ভাবনা প্রচুর। বাংলাদেশে নতুন এই খেলা শুরু থেকেই প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে । ২০০৯ সালে ৪র্থ  এশিয়ান আরচ্যারী গ্রান্ড প্রীক্স এ স্বর্ন জয় করে আনে  বাংলাদেশ।

 

ভারতবর্ষ, প্রাচীন মিশর ও চীন দেশে আরচ্যারীর ব্যাপক ব্যবহারের ইতিহাস পাওয়া যায় । প্রায় ৪০০ (চার শত) বছর পূর্বে ইংল্যান্ডে আরচ্যারীর প্রথম প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩০০ জন আরচ্যার অংশ নেয় । আরচ্যারী অলিম্পিকে অর্ন্তভূক্ত হয় ১৯০০সালে প্যারিস অলিম্পিকে পুরুষ আরচ্যার ও ১৯০৪ সালে মহিলা আরচ্যাররা প্রথম বারের মত  অলিম্পিকে অংশ নেয়। বর্তমানে ১৫১টি দেশে আরচ্যারী খেলা চালু আছে। প্রতিবেশী দেশ ভুটানের জাতীয় খেলা আরচ্যারী ।

 

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে আরচ্যারী শুরু হয়েছে। ২০০২ সালের অক্টোবরে অফিসিয়ালী বাংলাদেশে আরচ্যারী শুরু হলেও প্রথম মাঠে নামে ২০০৩ সালের নভেম্বরে । বাংলাদেশে আরচ্যারী প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করছে । দেশের অধিকাংশ মানুষ আরচ্যারী চিনেইনা। তার পরও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে সাউথ এশিয়ান আরচ্যারী চ্যাম্পিয়ন শীপ, এশিয়ান আরচ্যারী গ্রান্ড প্রিক্স, ইয়ুথ এশিয়ান আরচ্যারী চ্যাম্পিয়ন শীপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বিকেএসপিতে আরচ্যারী

আরচ্যারীর সফলতা  ও এর সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে অল্প কিছু আরচ্যার নিয়ে ২০০৯ সালে বিকেএসপিতে আরচ্যারী বিভাগ চালু হয়। আরচ্যারী বিভাগ বিকেএসপির ছোট বিভাগ গুলির একটি। আরচ্যারী বিভাগে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শুরুতে ১২ জন আরচ্যার(৬‌ জন পুরুষ ও ৬ জন মহিলা) ও ১ জন কোচ নিয়ে বিকেএসপিতে আরচ্যারী বিভাগ যাত্রা শুরু করে। র্বতমানে 10 জন মেয়ে, ১1 জন ছেলে প্রশিক্ষণার্থী এবং ১ জন কোচ রয়েছে। ভর্তির সময় আরচ্যার এর বয়স ১2-১3 হতে হয়। ভর্তির জন্য সারা দেশে প্রতিভা অন্মেষন ও কেন্দীয় ভাবে যাচাই বাছাই করে ভর্তি করা হয়। একই সাথে ক্রীড়া বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবস্থা যাচাই করা হয়।


Share with :
Facebook Facebook