মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ এপ্রিল ২০১৫

তায়কোয়ানডো

তায়কোয়ানডো একটি ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান মার্শাল আর্ট যা বিংশ শতাব্দীতে কোরিয়ায় আমত্মর্জাতিক খেলা হিসেবে উন্নতি ও বিকাশ লাভ করে। এটি হল খালি হাতে প্রতিপক্ষের আক্রমন প্রতিহতের একক কৌশল। তায়কোয়ানডো খেলার সমসত্ম কার্যকলাপ প্রতিপক্ষের সমসত্ম আক্রমণকে প্রতিহত করার প্রবৃত্তিগত কিছু কৌশলের উপর প্রতিষ্ঠিত।

তায়কোয়ানডো, মার্শাল আর্ট স্পোর্টস হিসেবে শুধু আত্নরক্ষা নয় বরং সমসত্ম শরীরকে চর্চাকারীর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার ও একটি কৌশল। তায়কোয়ানডো এর র্চ্চাকারীকে ভদ্রতা, উদারতা ও আত্মপ্রত্যয়ী করে গড়ে তুলে। এটি মনের পবিত্রতা, প্রশামিত্ম ও মানসিক শামিত্ম আনয়ন করে। এছাড়াও এ খেলা চর্চাকারী নিজেকে নমনীয় কর্মঠ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি মাংশপেশিকে শক্তিশালি ও ক্ষমতাবান করে তোলে। এটি শরীরে রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এখন তায়কোয়ানডো পৃথিবীতে একটি জনপ্রিয় অলিম্পিক গেম।

তায়কোয়ানডোর উৎস :

তায়কোয়ানডো কোরিয়ার একটি জাতীয় আর্ট এবং কোরিয় জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গর্বিত অংশ। শ্রমসাধ্য গবেষণার ফলেই তায়কোয়ানডো এখন আধুনিক খেলায় উন্নীত হয়েছে। প্রযুক্তিগত ও আত্নিক পরিশোধনের মাধ্যমে এবং তায়কোয়ানডো চর্চাকারীর নিরবচ্ছিন্ন চর্চার মাধ্যমে তায়কোয়ানডো খেলায় উন্নতি সাধিত হয়। একই সাথে জাতিকে রক্ষার জন্য জাতীয় মার্শাল আর্ট হিসেবে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত। প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ নিজেকে ও তার জাতিকে রক্ষার সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে। এ কারণেই সচেতনতা বা অসচেনতাবশত তার শারীরিক ক্রীয়াকলাপের মধ্য দিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করতে নিজেকে প্রস্ত্তত করে। কাল এবং পাত্র নির্বিশেষে মানুষ তার শারীরিক ক্রিয়াসাধন ছাড়া বেড়ে উঠতে পারে না। প্রাচীনকালে মানুষের হাত ও শরীর ছাড়া নিজেকে প্রতিহত করার অন্য কোন উপায় ছিল না। তাই প্রকৃতগতভাবেই মানুষ খালিহাতে লড়াইয়ের কৌশল আয়ত্ব করে এমনকি হাতগুলো যখন নিজেকে রক্ষা বা আক্রমণের মাধ্যম হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিল তখন ও মানুষ খালিহাতে লড়াইয়ের কৌশল ও শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জাতিগত বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে এই বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরম্ন করল। অতীত কালে কোরিয়ান উপদ্বীপগুলোতে তিন জাতি বসবাস করত। প্রতিটি জাতিই ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে মার্শাল আট প্রতিযোগিতা আয়োজন করতঃ এবং যোদ্ধাদের মার্শাল আর্ট সকলেই উপভোগ করত। ঐ সময়েই মানুষ বিভিন্ন কৌশল শিক্ষালাভ করে বিভিন্ন পশুদের সাথে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে যাদের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গি সমূহ বিচারাধীন বিষয় হিসেবে পরিগণিত ছিল। এটি বিশ^াস করা হয় যে এটিই ছিল তাইকোয়ান্ডোর প্রকৃত অতীত ইতিহাস। এই নামটি এসেছে সাবটাঙ্ক, টেক্কন, টেক্কন, ইত্যাদি থেকে। প্রাচীনকালে কোরিয়ান উপদ্বীপাঞ্চলের তিনটি রাজ্যের মধ্যে নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য দ্বন্দ্ব শুরম্ন হয়। তারা ছিল কগুরয় পাইকজি এবং শিলা তারা তাদের জাতীয় ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিজেদের মধ্যে প্রশিক্ষত যোদ্ধা গড়ে তোলেন। সে কারণেই কোরিয়ান ইতিহাস থেকে জানা যায় যে সুনামধন্য জাতীয় নেতাদের মধ্যে সু প্রশিক্ষক্ষত সেনা কর্মকর্তাগণ ছিলেন ঐ তিন রাজ্যের শাসক। যাদের মধ্যে পুরোহিত শাসন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। যার ফলে যুব যোদ্ধারা কোর ছিল সুসংহত। যেমন- সিলাই এর ‘হাউরাংকোচ’ কগুরইয়ার ‘চৌসুনিন’ সাজা উভয়েই মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষকে একটি গুরম্নত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের বিষয় হিসেবে গৃহিত হয়। বর্তমানের দিনের একটি বিখ্যাত মার্শাল আর্ট বিষয়ক বই ‘ময়িডুবুটোঙ্গি’ থেকে জানা যায় যে তাইকোয়ান্ডো হল (হাতে হাতে লড়াই কৌশল) মার্শাল আর্ট ভিত্তিক একটি কৌশল যেখানে খালি হাত বা পা ব্যাবহার করে শক্তি গঠন করা এবং হাত পা ও শরীরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যাতে যে কোন সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়ে নিতে এ টিকে থাকতে পারা যায়। এর অর্থ হল তাইকোয়ান্ডো সেই যুগেও লক্ষণীয় ভাবে বিদ্যমান ছিল। এভাবে যুব সহজেই অনুমান করা যায় যে তৎকালীন উপাজাতীয় নৃ-গোষ্টি থেকেই তায়কোয়ান্ডোর জন্ম হয়।

খ্রিষ্টপূর্ব ৫৭ সালে দক্ষক্ষণপূর্ব কোরিয়ায় সিলি রাজ্য এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৩৭ সালে বাগুরই রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় কোরিয়ার উত্তরাঞ্চলিয় ইয়ালু নদীর ধার ঘিরে। এই উভয় রাজ্যই শক্তিশালী যুব যোদ্ধা তৈরী করে যাদের নাম ছিল যথাক্রমে হিয়ারিং ও সানবিন। অবশ্যই তাইকোয়ান্ডো শারীরিক প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান বিষয়।

বিকেএসপিতে তাইকোয়ান্ডো

বিকেএসপি ২০১২ সালে আমত্মর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরীর লক্ষক্ষ্য বিকেএসপি ২০১২ সালে বিকেএসপি আমত্মর্জাতিক মানের তায়কোয়ান্ডো খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষক্ষ্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরম্ন করে। এই লক্ষক্ষ্য সফল হওয়ার জন্য বিকেএসপি তার অধিনসত্ম প্রশিক্ষণার্থীদের সকল ধরনের সহায়তা ও সুবিধা দিয়ে থাকে। বর্তমানে ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। বিকেএসপি টিম ১২তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং ৬২টি দলের মধ্যে রানার আপ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে আমরা আশা করছি বিকেএসপিতে তায়কোয়ান্ডো তার সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাবে। 


Share with :
Facebook Facebook